
যেসব কৌশলে ‘ইরানি আগ্রাসন’ মোকাবেলা করছে আমিরাত
ইরানি আগ্রাসন মোকাবেলা করতে তিনটি প্রধান কৌশল গ্রহণ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইরানের সাম্প্রতিক হামলাকে ‘নির্লজ্জ ও বর্বর আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দেশটি বলেছে, এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার জানিয়েছে, শুরু থেকেই তারা ইরানের এই পদক্ষেপকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্টের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে। যদিও আমিরাত বরাবরই কূটনৈতিক সমাধান ও সংলাপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তবে ইরান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটি। আমিরাত জানিয়েছে, তারা সংঘাত চায় না, কিন্তু নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
সরকারি দাবি অনুযায়ী, দেশটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে সক্ষম হয়েছে। তারা জানিয়েছে, ৯৫ শতাংশের বেশি হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা গেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়েছে।
Gulf News-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিরাত মূলত তিনটি কৌশলের ওপর ভিত্তি করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে—প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
এই কৌশলের মাধ্যমে দেশটি বড় ধরনের যুদ্ধে না জড়িয়েই সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। সরকারের মতে, তাদের লক্ষ্য যুদ্ধ উসকে দেওয়া নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে যথাযথ জবাব দেওয়া।
কূটনৈতিক পর্যায়েও সক্রিয় রয়েছে আমিরাত। আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে সমর্থন আদায়ের পাশাপাশি উত্তেজনা কমাতে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে দেশটি।
এদিকে পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তেহরানে নিজেদের দূতাবাস বন্ধ করে কূটনৈতিক মিশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমিরাত সরকার।
সংকটের মধ্যেও দেশটির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। সরকারি সেবা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালু রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে আমিরাত।

