দ্বিমুখী সংকটে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলো

দ্বিমুখী সংকটে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলো

59 / 100 SEO Score

ভারতীয় বিমান সংস্থা সংকট, মধ্যপ্রাচ্য আকাশসীমা, পাকিস্তান আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞা, ফ্লাইট বাতিল—ইরান ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় নতুন বিধিনিষেধ ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে। এর সঙ্গে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার বন্ধ থাকায় ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার রুটে বিকল্প পথও সীমিত হয়ে পড়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের বড় দুই আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন এয়ার ইন্ডিয়াইন্ডিগো গত ১০ দিনে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাগামী নির্ধারিত ১,২৩০টি ফ্লাইটের প্রায় ৬৪ শতাংশ স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করতে পারেনি। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রুট বদল, সময়সূচি পরিবর্তন ও কিছু ক্ষেত্রে ফ্লাইট ঘুরিয়ে দেওয়া বা বাতিলের ঘটনা বাড়ছে।

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ অমিত মিত্তাল বলেন, একই সঙ্গে দুই দিক থেকে চাপ পড়ায় আন্তর্জাতিক রুটে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলো ‘দ্বিগুণ ক্ষতির’ মুখে পড়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত এপ্রিল থেকে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান তার আকাশসীমা দিয়ে ভারতীয় উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করায় অনেক রুটে অতিরিক্ত সময় ও খরচ বেড়েছে।

খরচ-মুনাফায় চাপের আশঙ্কা

প্রতিবেদনে বলা হয়, এইচএসবিসির এক মূল্যায়নে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিমান সংস্থাগুলোর খরচ ও মুনাফায় উল্লেখযোগ্য চাপ ফেলতে পারে। নির্দিষ্ট সময় ধরে ফ্লাইট বিঘ্নিত থাকলে বার্ষিক কর-পূর্ব মুনাফার পূর্বাভাস কমে যেতে পারে বলেও ধারণা দেওয়া হয়েছে।

রিরুট ও যাত্রাবিরতি: সময় বেড়ে যাচ্ছে

ইন্ডিগোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শেষ মুহূর্তে আকাশসীমা বিধিনিষেধের কারণে একটি ফ্লাইট দীর্ঘ সময় আকাশে থাকার পরও গন্তব্যে না গিয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে। অন্যদিকে, ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়—এয়ার ইন্ডিয়ার দিল্লি-নিউইয়র্ক রুটে এক ফ্লাইটকে যাত্রাবিরতি নিতে হয়েছে, ফলে ভ্রমণ সময় অনেকটা বেড়ে গেছে। তুলনামূলকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী কিছু এয়ারলাইন ভিন্ন আকাশপথে তুলনামূলক কম সময়ে একই রুট সম্পন্ন করতে পারছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

এয়ার ইন্ডিয়ার বার্ষিক ক্ষতির পূর্বাভাস

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার কারণে এয়ার ইন্ডিয়া বছরে বড় অঙ্কের ক্ষতির আশঙ্কা জানিয়েছে। দীর্ঘ ফ্লাইট সময়, অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় ও তেলের দাম বাড়ার প্রভাব মিলিয়ে খরচ আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

আরও পড়ুন : আন্তর্জাতিক খবর

CATEGORIES
Share This

COMMENTS

Wordpress (0)
Disqus ( )