
দুবলার চরে ২০ জেলে অপহরণ, মুক্তিপণ ৫০ লাখ
বঙ্গোপসাগরে দুবলার চরসংলগ্ন এলাকায় জলদস্যুদের তৎপরতা আবারও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
জেলে অপহরণ, দুবলার চর, শুঁটকি পল্লী, মুক্তিপণ ৫০ লাখ—তিন দিনের ব্যবধানে এই ইস্যুই এখন সুন্দরবন উপকূলের জেলে ও শুঁটকি মহাজনদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।
বন বিভাগ জানায়, সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে দুবলার চরের নারিকেলবাড়িয়া ও আমবাড়িয়ার খাড়িসংলগ্ন সাগরে মাছ ধরার সময় আলোরকোল ও নারকেলবাড়িয়া শুঁটকি পল্লীর আরও ২০ জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহৃতরা পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের আওতাভুক্ত জেলে।
কারা অপহরণ হয়েছেন
অপহৃত ২০ জেলের মধ্যে রয়েছেন—হরিদাস বিশ্বাস, গোপাল বিশ্বাস, রমেশ বিশ্বাস, প্রশান্ত বিশ্বাস, শংকর বিশ্বাস, তুষার বিশ্বাস, মনিরুল ইসলাম, উজ্জল বিশ্বাস, কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়ল, সাধন বিশ্বাস, শিবপদ বিশ্বাস, রশিদ সরদার, প্রকাশ বিশ্বাস, ইয়াসিন মোড়ল, শিমুল, রূপকুমার বিশ্বাস, গণেশ বিশ্বাস, উত্তম বিশ্বাস ও বাটু বিশ্বাস।
তাদের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা-কয়রা ও সাতক্ষীরার আশাশুনি এলাকায় বলে জানানো হয়েছে।
২০ ট্রলার থেকে ২০ জন—একজন করে তুলে নেওয়া হয়
দুবলার শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রের বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) মিল্টন রায় জানান, সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে বঙ্গোপসাগরের পৃথক স্থানে মাছ ধরার সময় জলদস্যু সুমন ও জাহাঙ্গীর বাহিনী ২০টি ট্রলার থেকে একজন করে ২০ জেলেকে তুলে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় অন্য জেলেদের কাছে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বরও দিয়ে যায় দস্যুরা।
আগের ৬ জেলে এখনও জিম্মি, শুঁটকি ঘরপ্রতি চাঁদা দাবি
এর আগে গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে শেলারচর শুঁটকি পল্লীতে হানা দিয়ে বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনী ৬ জেলেকে অপহরণ করে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চার দিন পেরিয়ে গেলেও তারা এখনও দস্যুদের জিম্মি।
মিল্টন রায় বলেন, ওই ৬ জেলেকে ছাড়তে শেলারচর শুঁটকি পল্লীর ৫০টি শুঁটকি ঘর থেকে এক লাখ টাকা করে মোট ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। দ্রুত টাকা না দিলে জিম্মিদের না ছাড়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
জেলে-মহাজনদের আতঙ্ক, ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার শঙ্কা
দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, দস্যুদের দাপটে জেলেরা সাগরে যেতে ভয় পাচ্ছেন। চাঁদা-মুক্তিপণের টাকা দিতে দিতে অনেকের ব্যবসা বন্ধের মুখে, এমনকি পেশা ছাড়ার কথাও ভাবছেন কেউ কেউ। তিনি অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধার ও দস্যু দমনে কঠোর অভিযান জোরদারের দাবি জানান।
বন বিভাগের বক্তব্য: টহল জোরদার, সহায়তা চাওয়া হয়েছে
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম অপহরণের ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, সুন্দরবন ও শুঁটকি পল্লীগুলোর নিরাপত্তায় বনরক্ষীদের টহল বাড়ানো হয়েছে। সাগরে থাকা জেলেদের নিরাপত্তা এবং অপহৃতদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সহায়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন : সারাদেশ খবর

