
ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে উত্তরে জনজীবন বিপর্যস্ত
ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের দাপটে রংপুরে শৈত্যপ্রবাহ, উত্তরের জনজীবন ব্যাহত, কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা—সব মিলিয়ে উত্তরের জনপদে শীতের প্রকোপ বেড়েছে কয়েক গুণ। কয়েকদিন ধরে রংপুর বিভাগসহ আশপাশের জেলাগুলোতে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সকাল গড়ালেও সূর্যের দেখা মিলছে না; তাপমাত্রা খুব বেশি না কমলেও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় শীতের অনুভূতি তীব্র হচ্ছে।
রংপুর, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও গাইবান্ধায় ভোর থেকেই কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে চারদিক। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি যে দিনের আলো থাকলেও সড়কে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হচ্ছে। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে—বিশেষ করে ভোর ও সকালের দিকে।
শীতের কারণে অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালকসহ নিম্নআয়ের মানুষ—যাদের দৈনিক আয়ের ওপরই সংসার চলে। কুড়িগ্রামের রিকশাচালক বাবুল মিয়া জানান, শীত বাড়ায় রাস্তায় যাত্রী কমে গেছে। আয় কমে যাওয়ায় নতুন গরম কাপড় কেনা সম্ভব হচ্ছে না; পুরোনো জামাকাপড় দিয়েই কোনোভাবে দিন কাটছে।
অন্যদিকে, কাপড় ব্যবসায়ীদের দাবি—পুরোনো শীতবস্ত্রের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দামও বেড়েছে। এতে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। শীতবস্ত্রের অভাবে অনেক অতিদরিদ্র মানুষ খড়, কাঠ কিংবা পরিত্যক্ত কাগজ জ্বালিয়ে ঠাণ্ডা দূর করার চেষ্টা করছেন। ভোর ও রাতে কাজ কম থাকায় শ্রমজীবী মানুষের আয় কমে গিয়ে সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, শীতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের ওপর। ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় হাসপাতালে রোগীর চাপও বাড়ছে। এদিকে শীত থেকে বাঁচতে অনেক মানুষ ফুটপাত ও ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে কম দামের গরম কাপড় কিনছেন।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে রংপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও গাইবান্ধার বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৯ শতাংশ, যা কুয়াশাকে আরও ঘনীভূত করেছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিস জানায়, বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় কুয়াশা সহজে কাটছে না। এ অবস্থায় আগামী দুই থেকে তিন দিন শীতের এই প্রকোপ অব্যাহত থাকতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

