সোশ্যাল মিডিয়ায় শেষ ভার্চুয়াল নির্বাচনী লড়াই তুঙ্গে

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেষ ভার্চুয়াল নির্বাচনী লড়াই তুঙ্গে

64 / 100 SEO Score

ভার্চুয়াল নির্বাচনী প্রচারণা, এআই অপতথ্য, তরুণ ভোটার—নির্বাচনের শেষ ৪৮ ঘণ্টায় মাইক-সমাবেশ থামলেও অনলাইন দুনিয়ায় লড়াই আরও তীব্র।
সোশ্যাল মিডিয়া নির্বাচন এখন মূলত স্মার্টফোনের স্ক্রিনে; ফেসবুক, টিকটক, এক্স, টেলিগ্রাম ও ইউটিউবে চলছে ভোট টানার শেষ মুহূর্তের ‘ডিজিটাল যুদ্ধ’।

মাঠের প্রচার বন্ধ থাকার সুযোগে অনলাইনে প্রার্থীরা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, বক্তব্যের কাটছাঁট ভিডিও, লাইভ, রিলস ও শর্টস—সবকিছুই ছড়িয়ে দিচ্ছেন দ্রুত গতিতে। লক্ষ্য একটাই—তরুণ ভোটারদের কাছে পৌঁছানো এবং শেষ সিদ্ধান্তে প্রভাব রাখা।

৪ কোটি তরুণ ভোটার টানতে অনলাইন ঝুঁকছে সবাই

শেষ সময়ে সবচেয়ে বড় টার্গেট দেশের প্রায় চার কোটি তরুণ ভোটার। বিটিআরসির তথ্যমতে, দেশে ইন্টারনেট গ্রাহক প্রায় ১৩ কোটি। এর মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারকারী ৬ কোটি ৫০ লাখ, ইউটিউব ব্যবহারকারী ৫ কোটি—যা প্রচারণার জন্য বিশাল একটি ‘ডিজিটাল মাঠ’ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে বিবিএস ও বিটিআরসির মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যায় পার্থক্য থাকলেও বাস্তবতা হলো—মোবাইল-নির্ভর জনসংযোগই এখন সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।

ডিজিটাল উপস্থিতিতে কারা এগিয়ে

অনলাইনে ফলোয়ার এখন রাজনৈতিক ‘রিচ’ এবং বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার শক্তিমাপক। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে শীর্ষ নেতাদের ভেরিফায়েড পেজ ও ফলোয়ার সংখ্যা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ফলোয়ার বেশি মানেই ভোট নিশ্চিত—এমন নয়; তবে জনমত গঠন, বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং তরুণদের সংযোগে ডিজিটাল উপস্থিতির গুরুত্ব বাড়ছে।

ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময়ে অর্গানিক রিচের পাশাপাশি পেইড প্রোমোশন ও বট-নেটওয়ার্ক নিয়েও প্রশ্ন থাকে—ফলে দর্শক-প্রতিক্রিয়া বুঝতে সতর্ক বিশ্লেষণ জরুরি।

এআই অপতথ্য: দুই মাসে ৪৩টি ভুয়া দাবি শনাক্ত

নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টে অপতথ্য ছড়ানো আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ফ্যাক্ট-চেকিং ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাব-এর তথ্য অনুযায়ী, ১১ ডিসেম্বর থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৯টি ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে নির্বাচনসংক্রান্ত ৪৩টি ভুয়া দাবিতে এআই কনটেন্ট ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
আর ফেব্রুয়ারির প্রথম ৮ দিনেই ১৫টি এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট দিয়ে অপতথ্য ছড়ানোর তথ্য উঠে এসেছে।

ডিসমিসল্যাবের আরেক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ১–১৫ জানুয়ারি সময়ে ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকে ৮০০টির বেশি এআই ভিডিও শনাক্ত করা হয়—যার বড় অংশে এআই-ডিসক্লেইমার নেই। ফলে অনেকেই এগুলোকে আসল ভিডিও ভেবে বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

“৯০% অপতথ্য ভারত থেকে”—এএফপির প্রতিবেদন

বার্তা সংস্থা এএফপি-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন সামনে রেখে সংগঠিত অপপ্রচারের ৯০ শতাংশের বেশি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে ছড়ানো হচ্ছে—এমন দাবি করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে এটাও উল্লেখ করা হয়েছে, ভারত সরকারের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এএফপি আরও জানায়, ‘হিন্দু জেনোসাইড’ হ্যাশট্যাগে আগস্ট ২০২৪ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত এক্সে প্রায় সাত লাখের বেশি পোস্ট হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে—২০২৫ সালে সংখ্যালঘুদের ওপর ঘটনার মধ্যে ১২ শতাংশ ছিল সাম্প্রদায়িক/ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক।

ভোটারদের জন্য সতর্ক বার্তা: যাচাই না করে শেয়ার নয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঠের প্রচার বন্ধ থাকায় অনলাইনে গুজব দ্রুত ছড়ায়—তাই ছবি/ভিডিও দেখে তাৎক্ষণিক উত্তেজিত না হয়ে যাচাই জরুরি। নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্যের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ও নির্ভরযোগ্য মূলধারার গণমাধ্যমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজনীতির আরও খবর

CATEGORIES
Share This

COMMENTS

Wordpress (0)
Disqus ( )