
রাষ্ট্রীয় রিফাইনারি বেসরকারিকরণে তৎপরতা বাড়ছে
পেট্রোলিয়াম রিফাইনারি বেসরকারিকরণ নিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও জ্বালানি বিভাগের তৎপরতা জোরালো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিপিসি, এসপিএল, বেসরকারি জ্বালানি নীতিমালা—এই তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক নথি-চিঠি ও বোর্ড সভা ঘিরে জ্বালানি খাতে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সূত্র জানায়, বেসরকারি উদ্যোগে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত জ্বালানি তেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের অনুমতি চেয়ে চট্টগ্রামভিত্তিক টিকে গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেড (এসপিএল)—বর্তমানে এসপি পিএলসি—জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে আবেদন করে। আবেদনপত্রে উৎপাদন লক্ষ্য উল্লেখ থাকলেও বিনিয়োগ সক্ষমতার বিস্তারিত আর্থিক তথ্য নেই বলেও নথিপত্রে দেখা গেছে।
কমিটি, প্রতিবেদন ও সুপারিশ নিয়ে প্রশ্ন
আবেদনের পর জ্বালানি বিভাগ বিপিসির মতামত চেয়ে চিঠি দিলে বিপিসি একটি কমিটি গঠন করে। কমিটি ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল প্রতিবেদন জমা দেয়। নথিপত্র অনুযায়ী, প্রতিবেদনে প্রকল্পের আর্থিক বিনিয়োগসংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল না। এরপর প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় অনুমতি প্রদানের সুপারিশসংক্রান্ত চিঠি ইস্যু হওয়া নিয়ে বিপিসি ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোতে আলোচনা তৈরি হয়।
বোর্ড সভা এগিয়ে আনা নিয়ে অসন্তোষ
সূত্র আরও জানায়, বিপিসির একটি বোর্ড সভায় (জুম প্ল্যাটফর্মে) এসপিএলকে অনুমতি প্রদানের বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে ছিল। সভাটি একদিন এগিয়ে আয়োজন করা হলে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ও অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোতে অসন্তোষ দেখা দেয় বলে কয়েকজন কর্মকর্তা জানান।
কর্মকর্তাদের আশঙ্কা: ইআরএল-২ প্রকল্প ঝুলে যেতে পারে
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিপিসি ও কয়েকটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলেন, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ইআরএল-২ প্রকল্পের অগ্রগতি প্রশ্নে বেসরকারি বড় রিফাইনারি অনুমতির প্রভাব পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে। তাদের মতে, প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে রাষ্ট্রীয় প্রকল্প দীর্ঘসূত্রতায় পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিনিয়োগ বাস্তবতা ও সক্ষমতা প্রসঙ্গ
জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরে অন্তত ১৫ লাখ টন উৎপাদন সক্ষমতার রিফাইনারি স্থাপনে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ দরকার হয় এবং প্রযুক্তি-যন্ত্রপাতির বড় অংশ আমদানিনির্ভর। নথিপত্রে এসপিএলের বিদ্যমান জেটি সুবিধা, প্ল্যান্ট সক্ষমতা, সম্ভাব্য উৎপাদন ও বিপণন কাঠামো সম্পর্কে কিছু তথ্য থাকলেও বিপণন নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট নয় বলে উল্লেখ আছে।
সরকারের বক্তব্য: সিদ্ধান্ত হয়নি
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, বেসরকারি রিফাইনারি বিষয়ে এখনো পর্যন্ত সরকারের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি জানান, যে কেউ নীতিমালার আওতায় আবেদন করলে তা প্রক্রিয়াগতভাবে বিবেচনায় আসতে পারে।
আরও পড়ুন: অর্থনীতির আরও খবর
সূত্র: জাগো নিউজ।

