সমন্বয়হীনতায় প্রশাসনে সেবা বিপর্যয়, ভোগান্তি বাড়ছে

সমন্বয়হীনতায় প্রশাসনে সেবা বিপর্যয়, ভোগান্তি বাড়ছে

58 / 100 SEO Score

প্রশাসনে সমন্বয়হীনতা দেশের সেবাখাতে ভোগান্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে—এমন অভিযোগ উঠছে বহুদিন ধরেই।
সাবরেজিস্ট্রার অফিস, ফায়ার সার্ভিস, এলোকেশন অব বিজনেস—এই তিনটি উদাহরণ সামনে এনে প্রশাসনিক কাঠামোর “অসঙ্গতি” দূর করার দাবি তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, দায়িত্ব-ক্ষমতা-জবাবদিহির বিভাজনে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা; আর এর শেষ প্রভাব গিয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের সেবাপ্রাপ্তিতে।

ফায়ার সার্ভিস: কাজ দুর্যোগে, অধীনতা স্বরাষ্ট্রে

অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প, বন্যা বা পাহাড়ধসে প্রথম সারিতে কাজ করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জাতীয় দুর্যোগের সার্বিক তদারক করলেও ফায়ার সার্ভিস স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন। ফলে যন্ত্রপাতি কেনা, নির্দেশনা, লোকবল ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রে সমন্বয়ের সংকট তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ।

সাবরেজিস্ট্রার অফিস: ৯০% কাজ ভূমি, তবু আইন মন্ত্রণালয়ে

জমি নিবন্ধন ও নামজারি-সম্পর্কিত জটিলতা সমাধানে সাবরেজিস্ট্রার অফিসের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। তবে অফিসটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন নয়; এটি আইন ও বিচার বিভাগের নিবন্ধন পরিদপ্তরের অধীন। অভিযোগ হলো—ভূমি সংক্রান্ত অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে চাপ আসে ভূমি মন্ত্রণালয়ে, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ থাকে অন্য মন্ত্রণালয়ের হাতে; ফলে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়।

কাজী অফিস: ধর্মীয় কাজ, তবু নিবন্ধন পরিদপ্তরের অধীনে

মুসলিম বিধান অনুযায়ী বিয়ে/নিকাহ পড়ানো ও নিবন্ধনের দায়িত্ব পালন করেন কাজীরা। যুক্তি অনুযায়ী কাজী অফিস ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে সেটিও নিবন্ধন পরিদপ্তরের অধীন—ফলে এখানেও কাঠামোগত অসঙ্গতির অভিযোগ রয়েছে।

‘স্নায়ুযুদ্ধ’ আর কর্তৃত্ব ছাড়তে অনীহা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব দপ্তরের অধীনতা বদলাতে বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রভাবশালী মন্ত্রণালয়গুলো কর্তৃত্ব ছাড়তে অনীহা দেখায়। এমনকি সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তোলার প্রস্তুতি থাকলেও আইন মন্ত্রণালয়ের আপত্তিতে তা আটকে যায়—এমন তথ্যও উঠে এসেছে।

প্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. ফিরোজ মিয়া বলেছেন, প্রশাসনের এসব অসঙ্গতি দূর করতে ‘Allocation of Business’ সংশোধন জরুরি। তার মতে, সরকারের শীর্ষ পর্যায়কে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তবেই সেবাপ্রার্থী মানুষের ভোগান্তি কমবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদও বলেছেন, ভূমি খাতে হয়রানির অন্যতম কারণ সমন্বয়হীনতা। সাবরেজিস্ট্রার অফিসে ভূমি-সংক্রান্ত কাজের আধিক্য থাকলেও নিয়ন্ত্রণ ভিন্ন মন্ত্রণালয়ে থাকায় অনিয়মের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়—এমন বক্তব্যও তিনি উল্লেখ করেন।

অতীতে ডিসি সম্মেলন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এবং বিভিন্ন নীতিপরামর্শে সাবরেজিস্ট্রার অফিসকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনার সুপারিশ এলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন : জাতীয় খবর 

CATEGORIES
Share This

COMMENTS

Wordpress (0)
Disqus ( )