সাত মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি

সাত মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি

58 / 100 SEO Score

রাজস্ব ঘাটতি, এনবিআর, আয়কর ঘাটতি, ভ্যাট ঘাটতি—দেশের অর্থনীতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের মন্দাভাব, বিনিয়োগে ভাটা ও ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে সরকারের কোষাগারেও। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই–জানুয়ারি) রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল ২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। কিন্তু তিনটি প্রধান খাতে মোট ঘাটতি হয়েছে ৬০ হাজার ১১৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি আয়কর খাতে।

কোন খাতে কত ঘাটতি

  • আয়কর ঘাটতি: ২৮,৯২৫ কোটি টাকা

  • আমদানি (শুল্ক) ঘাটতি: ১৫,৬৮৩ কোটি টাকা

  • ভ্যাট ঘাটতি: ১৫,৫০৬ কোটি টাকা

সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, রাজস্ব আদায়ের এই চিত্র নতুন নির্বাচিত সরকারের জন্য বড় চাপ তৈরি করতে পারে।

আয়কর আদায়ে বড় পিছিয়ে

তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে আয়কর খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ৭৫ হাজার ৫৫ কোটি টাকা। এনবিআর সূত্র বলছে, আয়ের খাত সংকুচিত হওয়ায় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থবিরতার কারণে আয়কর আদায়ে চাপ তৈরি হয়েছে।

আমদানি কমায় শুল্ক আয়ও কম

বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কম থাকা এবং সরকারি প্রকল্প স্থবির থাকায় শিল্প ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল আমদানি কমেছে—এমন দাবি এসেছে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে। ফলে আমদানি পর্যায়ে শুল্ক আদায়ও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হয়নি। এই সময়ে আমদানি খাতে লক্ষ্য ছিল ৭৮ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৬২ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা

ভ্যাট আদায়ে প্রভাব মূল্যস্ফীতির

আমদানি-উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত নানা স্তরে ভ্যাট পরিশোধ হয়। এনবিআরের তথ্যমতে, এই সময়ে ভ্যাট আদায় হয়েছে ৮৫ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা, যেখানে লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও মানুষের আয় কমে যাওয়ায় ভোগ কমেছে—এর প্রভাব ভ্যাট আদায়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের টার্নওভার বাড়লে রাজস্বও বাড়ে; আয় না বাড়লে ট্যাক্সও বাড়ে না। তিনি আইন-শৃঙ্খলা ও নীতিগত স্থিতিশীলতার ওপর বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টি নির্ভর করছে বলেও উল্লেখ করেন।

সরকারি হিসাবে জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি ৮.৫৮ শতাংশ ছিল। বাসাভাড়া, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয়চাপ বাড়ার কথাও তথ্য-উপাত্তে উঠে এসেছে। উচ্চ সুদের হার ধরে রেখে মূল্যস্ফীতি কমানোর নীতির কাঙ্ক্ষিত ফল এখনো দৃশ্যমান নয়—এমন মন্তব্যও রয়েছে বিশ্লেষকদের।

আরও পড়ুন : অর্থনীতি খবর 

CATEGORIES
Share This

COMMENTS

Wordpress (0)
Disqus ( )