
যুদ্ধে প্লাস্টিক কাঁচামালের দাম বেড়ে দ্বিগুণ, বিপাকে শিল্পখাত
প্লাস্টিক কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি বাংলাদেশের শিল্পখাতে নতুন করে সংকট তৈরি করেছে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রভাবে জ্বালানি তেল ও পলিমার রেজিনের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে প্লাস্টিকের কাঁচামালের দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পিভিসি, পিপিআর, এইচডিপিই রেজিন এবং জিআই ফিটিংসের জন্য স্টিল শিট ও গ্যালভানাইজড উপকরণ প্লাস্টিক শিল্পের প্রধান কাঁচামাল। এসবের বড় অংশ আমদানি করা হয় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান ও তুরস্ক থেকে। তবে চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বাংলাদেশে প্লাস্টিক ও জিআই ফিটিংস শিল্পের বাজার প্রায় ৬,৫০০ থেকে ৭,০০০ কোটি টাকার, যেখানে শতাধিক কারখানা সক্রিয়। নির্মাণ, আবাসন, অবকাঠামো, পানি সরবরাহ, কৃষি ও গার্মেন্টস প্যাকেজিংসহ বিভিন্ন খাতে এই শিল্পের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা রয়েছে। খাতটিতে প্রায় ১৫ লাখ কর্মী কাজ করছেন।
আমদানিকারকদের তথ্য অনুযায়ী, আগে এলসি খোলার তিন-চার সপ্তাহের মধ্যে পণ্য এলেও এখন তা পৌঁছাতে সাত-আট সপ্তাহ সময় লাগছে। গত এক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে প্লাস্টিক কাঁচামালের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
যুদ্ধের আগে প্রতি টন প্লাস্টিকের দাম ছিল ৮০০ থেকে ৯৫০ ডলার, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৫০০ থেকে ১,৮০০ ডলারে। একই সঙ্গে প্রতি টনে ৫০ থেকে ১০০ ডলার পর্যন্ত শিপিং খরচও বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অনেক কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে খুচরা পর্যায়ে প্লাস্টিক পণ্যের দাম দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে এবং অনেক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
কেরানীগঞ্জের ইমপেরিয়াল প্লাস্টিক লিমিটেড-এর মালিক কে এম ইকবাল হোসাইন জানান, আগে ২৫ কেজি প্লাস্টিকের দাম ছিল ৩,০০০ টাকা, যা এখন বেড়ে ৬,৫০০ টাকায় পৌঁছেছে। এ কারণে তিনি সাময়িকভাবে কারখানা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে লুনা পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস এম কামাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, উচ্চ ভ্যাট ও শুল্কের কারণে ব্যবসার খরচ আগেই বেড়েছিল। এর সঙ্গে নতুন করে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি যুক্ত হওয়ায় শিল্পখাত চরম চাপের মুখে পড়েছে।
ব্যবসায়ীরা এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের নীতিগত সহায়তা কামনা করেছেন।

