
রিযিক বণ্টনে আল্লাহর প্রজ্ঞা ও ন্যায়
রিযিক বণ্টনে আল্লাহর প্রজ্ঞা, সূরা বনি ইসরাঈল ৩০, রিযিক কম বেশি, কোরআনের ব্যাখ্যা—কোরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, কারও রিযিক বাড়ানো বা কমানো কোনো “হঠাৎ” বা “অন্যায়” সিদ্ধান্ত নয়; বরং তা আল্লাহর জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও বান্দার অবস্থার প্রতি পূর্ণ অবগতির ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হয়।
সুরা ও আয়াত
সুরা: বনি ইসরাঈল
আয়াত: ৩০
আরবি (আয়াত)
اِنَّ رَبَّكَ یَبۡسُطُ الرِّزۡقَ لِمَنۡ یَّشَآءُ وَ یَقۡدِرُ ؕ اِنَّهٗ كَانَ بِعِبَادِهٖ خَبِیۡرًۢا بَصِیۡرًا ﴿۳۰﴾
সরল অনুবাদ
“নিশ্চয় তোমার রব যার জন্য ইচ্ছে তার রিযক বাড়িয়ে দেন এবং যার জন্য ইচ্ছে তা সীমিত করেন; নিশ্চয় তিনি তাঁর বান্দাদের সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত, সর্বদ্রষ্টা।”
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা (সহজ ভাষায়)
এই আয়াতে বোঝানো হয়েছে—রিযিকের প্রশস্ততা বা সীমাবদ্ধতার পেছনে আল্লাহর গভীর হিকমত কাজ করে। আল্লাহ তাআলা জানেন:
কাকে বেশি দিলে সে অহংকারে সীমা ছাড়াবে, হারাম পথে যাবে বা কৃতজ্ঞতা ভুলে যাবে কি না।
কাকে কম দিলে সে ধৈর্য ধরবে, সৎ থাকবে—নাকি হতাশ হয়ে নাফরমানির দিকে যাবে।
কারও জন্য সম্পদ পরীক্ষা, কারও জন্য স্বল্পতা পরীক্ষা—দুইটিই বান্দার জন্য আল্লাহর একটি পরিকল্পিত মাপকাঠি।
তাই আল্লাহ তাআলা বান্দার অন্তর, নিয়ত, সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ পরিণতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত বলেই যার জন্য যা কল্যাণকর, সে অনুযায়ী রিযিক বণ্টন করেন। আল্লাহর কাছে কিছুই গোপন নয়—তিনি জানেন বান্দা গোপনে কী রাখে, প্রকাশ্যে কী করে।
আয়াতটি আমাদের শেখায়—রিযিকের বিষয়ে অস্থির না হয়ে তাওয়াক্কুল, কৃতজ্ঞতা ও ধৈর্য বজায় রাখতে হবে এবং হালাল পথে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
আরও পড়ুন: ইসলাম ও জীবন

