ভোটকেন্দ্র নিরাপত্তায় নজিরবিহীন প্রস্তুতি, বাহিনী মোতায়েন

ভোটকেন্দ্র নিরাপত্তায় নজিরবিহীন প্রস্তুতি, বাহিনী মোতায়েন

61 / 100 SEO Score

ভোটকেন্দ্র নিরাপত্তা, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র, সিসিটিভি ক্যামেরা, বডিওর্ন ক্যামেরা— এসব ইস্যুতেই এবারের নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি। ঢাকা-১৮ আসনের ভোটার বিলকিস আক্তার বলছিলেন, “ভোট দিতে চাই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রে যাওয়া হবে কি না—তা নির্ভর করবে ভোটের দিনের পরিস্থিতির ওপর।”

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকা অনুযায়ী ঢাকা-১৮ আসনের ২১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮৯টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশের পাঠানো তালিকায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটকেন্দ্রেরও ৭৫ শতাংশের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছে। সারাদেশে মোট ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪০ শতাংশের বেশি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইসির দাবি: ‘নজিরবিহীন’ নিরাপত্তা

নির্বাচন কমিশন বলছে, ভোটকেন্দ্র ঘিরে হামলা-সহিংসতা ঠেকাতে এবার “নজিরবিহীন” নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, মাঠে রয়েছে রেকর্ডসংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী; পাশাপাশি কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পুলিশের জন্য বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে—যা আগে এত ব্যাপকভাবে দেখা যায়নি।

ভোটের দিন কী প্রস্তুতি?

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, নির্বাচন ও গণভোটকে শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন।
ভোটের আগের দিন থেকেই ব্যালট পেপার, বক্স, সিল, কালি সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী ৪২ হাজারের বেশি কেন্দ্রে পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে। এক আসনে প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে ভোট স্থগিত থাকায় ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ হবে।

ভোটগ্রহণের সময়সূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট হবে। ভোটাররা দুটি ব্যালটে ভোট দেবেন—একটি সংসদ নির্বাচনের জন্য, অন্যটি গণভোটের জন্য। ভোট শেষে কেন্দ্রেই প্রাথমিক গণনা সম্পন্ন করে ফলাফল ঘোষণার কথা বলা হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র: কেন এমন তালিকা?

সাধারণত অতীতে সহিংসতা/ভাঙচুর/ব্যালট ছিনতাইয়ের ইতিহাস, ভৌগোলিক ঝুঁকি (দুর্গম চর, সীমান্ত, পাহাড়ি এলাকা), প্রভাবশালী কারও অবস্থান, দুর্বল অবকাঠামো—এসব বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়।
পুলিশের তালিকা অনুযায়ী ঢাকা সিটি করপোরেশনের ২,১৩১ কেন্দ্রের মধ্যে ১,৬১৪টি ঝুঁকিপূর্ণ দেখানো হয়েছে।

কেন্দ্রে মোতায়েন: কারা থাকবেন?

সরকারি তথ্য অনুযায়ী নির্বাচনী নিরাপত্তায় প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মাঠে থাকবেন। এর মধ্যে সেনাসহ এক লাখের বেশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যও নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকবেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কেন্দ্রের নিরাপত্তায় ১ লাখ ৫৭ হাজার পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন; সহায়ক বাহিনীসহ ভোটে পুলিশের বড় অংশ মাঠে থাকবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী—

সাধারণ কেন্দ্রে: অস্ত্রসহ ২ জন পুলিশ + আনসার/ভিডিপি/গ্রাম পুলিশ

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে: এলাকায়ভেদে ৩–৪ জন (মেট্রোপলিটনে আরও বেশি) অস্ত্রধারী পুলিশ

প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি: সিসিটিভি, বডিক্যাম, ড্রোন

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্র দায়িত্বে থাকা পুলিশের সঙ্গে থাকবে ২৫ হাজারের বেশি বডিওর্ন ক্যামেরা—যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ অনলাইনে মনিটরিংয়ের আওতায় থাকবে।
এছাড়া মাঠে ড্রোন নজরদারি ও ডগ স্কোয়াড টিমও মোতায়েন রাখার কথা জানানো হয়েছে।

বড় শঙ্কা: গুজব-অপতথ্য

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠের নিরাপত্তার পাশাপাশি ভোটের দিনে বড় ঝুঁকি হতে পারে গুজব ও অপতথ্য। কমিশন বলছে, গুজব-অপতথ্য নিয়ন্ত্রণে সাইবার সেলসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আলাদা ব্যবস্থায় নজরদারি চালাবে।

পর্যবেক্ষক থাকছেন

ইসি জানিয়েছে, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৪৫টি দেশ ও সংস্থা থেকে প্রায় ৩৩০ জন প্রতিনিধি এবং দেশের নিবন্ধিত ৮১টি সংস্থার ৪৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক মাঠে থাকবেন।

আরও পড়ুন: রাজনীতির আরও খবর

CATEGORIES
Share This

COMMENTS

Wordpress (0)
Disqus ( )