
ছেঁড়া নোট বদলে অনীহায় ব্যবস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের
ছেঁড়া নোট বদল নীতিমালা কার্যকর করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক—নষ্ট নোটের মূল্য ফেরত, বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার, ৯০ শতাংশ নোট পূর্ণ মূল্য—এই নির্দেশনার আওতায় এখন থেকে ব্যাংক শাখায় ছেঁড়া-ফাটা বা ক্ষতিগ্রস্ত নোট নিতে অনীহা দেখালেই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ব্যবহার কিংবা বিভিন্ন কারণে কাগজের নোট ছিঁড়ে যাওয়া, জীর্ণ হওয়া বা পোড়া নোট নিয়ে সাধারণ মানুষ প্রায়ই বিড়ম্বনায় পড়েন। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে নতুন নির্দেশনা পাঠিয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে—নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো নোটের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ বিদ্যমান থাকলে গ্রাহক সেই নোটের বিপরীতে পূর্ণ মূল্যমানের অর্থ ফেরত পাবেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত নোটের কত অংশ থাকলে কত টাকা পাওয়া যাবে—তা স্পষ্ট করে নির্ধারণ করা হয়েছে।
সার্কুলারের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক নোট প্রত্যর্পণ প্রবিধান ২০২৫’ কার্যকর করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক নোট রিফান্ড রেগুলেশনস ২০১২’ বাতিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগে ছেঁড়া ও পোড়া নোট বদলের ক্ষেত্রে যথেষ্ট স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহককে ভোগান্তিতে পড়তে হতো।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে—কোনো নোট দুই খণ্ডে বিভক্ত হলে খণ্ড দু’টি সন্দেহাতীতভাবে একই নোটের অংশ হতে হবে। জমা গ্রহণের সময় নোটের বিচ্ছিন্ন খণ্ড দু’টির উল্টো পিঠে সরু আকারের হালকা সাদা কাগজ দিয়ে জোড়া লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে আসল নোট শনাক্তে সমস্যা না হয়। একইভাবে, যেসব জীর্ণ নোট নড়াচড়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে, সেগুলোর উল্টো পিঠেও হালকা সাদা কাগজ সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র আরও জানায়, বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বা পুড়ে যাওয়া প্রচলিত নোট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখা অফিসসহ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকেও বদল করা যায়। তবে সব ক্ষেত্রে পুরো মূল্য পাওয়া যায় না—পূর্ণ মূল্য ফেরতের শর্তটি মূলত ৯০ শতাংশের বেশি অংশ অক্ষত থাকা নোটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্যান্য ছেঁড়া-ফাটা নোটও নিয়ম অনুযায়ী বদল করা হবে।
নীতিমালায় অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াও উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো ব্যাংক শাখায় নোটের বিনিময় মূল্য পেতে সমস্যা হলে গ্রাহক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন। শাখা নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হলে আবেদন প্রধান কার্যালয়ে যাবে; সেখান থেকেও সমাধান না হলে বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হবে। আবেদনপত্র পাওয়ার আট সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে এবং মূল্য প্রদেয় হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হিসাবে অর্থ সমন্বয় করা হবে।
সুষ্ঠু নগদ লেনদেন নিশ্চিত করতে ব্যাংকের বিধি অনুযায়ী ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত নোট সংক্রান্ত সেবা নিয়মিত দিতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে এ ধরনের সেবা দিতে কোনো শাখা অনীহা দেখালে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও সার্কুলারে জানানো হয়েছে।

